নির্মাণাধীন ভবনের রড পড়ে যুবকের মৃত্যু, কনকর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীর গুলশান এলাকায় কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের একটি নির্মাণাধীন সুউচ্চ ভবন থেকে মাথায় লোহার রড পড়ে আশফাক চৌধুরী পিপলু (৪৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, প্রকল্প ইনচার্জ আল আমিনসহ আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিহতের শ্বশুর মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। গুলশান থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় মেধা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরের খাবারের পর গুলশান-১ এর রোড-১৪০–এ নিজের অফিসের সামনে ফুটপাতে এক সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলছিলেন আশফাকুজ্জামান চৌধুরী। ঠিক সেই সময় ওপর থেকে লোহার রডটি পড়ে তাঁর মাথায় আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আশফাকুজ্জামান চৌধুরী জিই হেলথকেয়ার টেকনোলজিসে লজিস্টিকস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের বরুমছড়ায়। তার বাবা মোহাম্মদ নাদেরুজ্জামান চৌধুরী বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক।
আরও পড়ুন: ঢাকায় বহুতল ভবনে আগুন, ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, ভবনটি কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের অধীনে নির্মাণাধীন ছিল। নির্মাণকাজ চলাকালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সে বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “গুলশান–১ এর ১৪০ নম্বর রোডের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের একটি সুউচ্চ নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে যাওয়া লোহার রড মাথায় ঢুকে গিয়ে আশফাক চৌধুরী পিপলুর মৃত্যু হয়।” তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া উচিত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তার মরদেহ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুমচড়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে।





