এখনও ঝুলছে ব্যানার-ফেস্টুন সরানো হয়নি প্রচারণার বিলবোর্ড
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪ দিন পার হলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলিতে এখনও নির্বাচনি ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলছে। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের প্রতি নিদের্শনা ছিল ফল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তারা নির্বাচনি পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে ফেলবেন। নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটরা ব্যবস্থা নেবেন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে শতভাগ সফল হলেও ভোট শেষ হওয়ার ৪ দিন পার হলেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনও সরেনি নির্বাচনি পোস্টার ও ব্যানার। সরেজমিন দেখা গেছেÑ রাজধানীর পান্থপথ, বাংলামোটর, কাঁঠালবাগান, বংশাল, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, মগবাজার ও মিরপুরের অনেক এলাকাতেই এখনও ঝুলছে নির্বাচনের ব্যানার ও ফেস্টুন। অধিকাংশ এলাকাতে এখনও নির্বাচনি প্রচারের জন্য গড়ে তোলা অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোও রয়ে গেছে। কিছু জায়গায় পোস্টার ও ব্যানার সরলেও খালি দড়ি রাস্তার উপর ঝুলে রয়েছে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে দলগুলোর উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে পোস্টারে। অথচ আমরা পোস্টার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। এগুলো সরাতে হবে। যারা লাগিয়েছেন সরিয়ে নিন; আমরা কঠোর হব।
এখনও নির্বাচনি পোস্টার রয়েছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেনÑ আমরা সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারি করেছি। আমাদের রিটার্নিং অফিসাররা এগুলো নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। আমি মন্দের ভালোটা বলি... অন্তত আজকে বাসা থেকে আমি অফিসে আসতে গিয়ে কিন্তু আমি অনেক ব্যানার টানানো আর দেখি নাই। তবে আমার চোখে কিছু পোস্টার পড়েছে যেগুলো আঠা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ল্যাপটানো, এগুলো আর হয়তো সরাতে পারে নাই। কিন্তু এগুলো নিয়েও আমরা রিটার্নিং অফিসারদের বলে দেব, এগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে। এদিকে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনী সামগ্রী সরিয়ে নিতে জারি করা হয় গণবিজ্ঞপ্তি। তারা ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেস্টুন-ব্যানার অপসারণের কাজ শুরু করেছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে পুরো রাজধানী থেকে সব ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হবে বলে জানান তারা। গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে নির্বাচনী সামগ্রী সরিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। রাজধানীর অন্তত ৮টি আসন ঘুরেÑ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানার, ফেস্টুন-ব্যানার ও বিলবোর্ড দেখা গেছে। সংখ্যার দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন বেশি ছিল। তবে কিছু এলাকায় অপসারণের চিত্রও দেখা গেছে। বাংলামোটর থেকে শাহবাগের দিকে মেট্রোরেলের পিয়ারে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ছবি ও দলীয় প্রতীক ধানের শীষ সংবলিত ছোট-বড় ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলতে দেখা গেছে। এছাড়া এনসিপির প্রার্থী কাজী ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকন পার্টির ইঞ্জিনিয়ার কামাল হোসেন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকসহ কয়েকজন প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। ইস্কাটন এলাকায় বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের পোস্টারও চোখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডি ৩২ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকসহ ৫ জন আটক
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়ে পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ কার্যক্রমে নামলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। জামায়াত ঘোষণা দিয়ে কয়েকটি এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণ করলেও ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় দলটির সমর্থিত প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোস্টার, ব্যানার সরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াত আমির নিজ হাতে নির্বাচনি ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণ করেন। একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক এলাকা গড়ে তুলতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সবাই আরপিওর বিষয়টি না জানার কারণে হয়তো সব জায়গার পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। নীতিমালা সম্পর্কেও সবাই পরিষ্কারভাবে জানেন না। তবে দল থেকে দ্রুত ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। আমাদের অনেক প্রার্থী নিজের হাতেও পোস্টার অপসারণ করেছেন।
ঢাকার বাইরেও প্রায় একই চিত্র
আরও পড়ুন: ‘ডেলিভারিংলাভস’ ইভেন্টের মাধ্যমে চেরির ভালোবাসা দিবস উদযাপন
রাজশাহীতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, দেয়াল লিখন ও তোরণ অপসারণের কাজ শুরু হলেও কোথাও কোথাও সেগুলো রয়ে গেছে। রাজশাহীর সংসদীয় আসনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রার্থী নিজ খরচে পোস্টার অপসারণ করছেন। রাজশাহী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু জানান, পোস্টার ও ব্যানার নিজ খরচে অপসারণের জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেগুলো সরাচ্ছেন। বরিশালের অধিকাংশ স্থান থেকে এখনো প্রার্থীদের ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করা হয়নি। যদিও প্রার্থীরা বলছেন, অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বরিশাল নগরীর জিলা স্কুল মোড়, নথুল্লাবাদ, রূপাতলী বাস টার্মিনাল, সদর রোড ও লঞ্চঘাট এলাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতীকে ভোট চেয়ে পোস্টার লাগানো দেখা গেছে। সরাসরি প্রার্থীদের পোস্টার না থাকলেও প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে লাগানো ব্যানার ও পোস্টার এখনো রয়েছে। বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু কিছু স্থানের ব্যানার সরানো হলেও অনেক জায়গায় এখনো রয়ে গেছে। লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের মধ্যে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. রেজাউল করিম, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ানের কর্মী-সমর্থকেরা নিজ নিজ পোস্টার ও বিলবোর্ড অপসারণ শুরু করেছেন। তবে গত রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্য দলের প্রার্থীদের পোস্টার অপসারণ করতে দেখা যায়নি। জেলা বিএনপির একজন নেতা জানান, তাদের প্রার্থীরাও রবিবারের মধ্যে পোস্টার ও বিলবোর্ড অপসারণ করবেন। কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরসহ আরও কয়েকটি জেলাতেও প্রায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন সিটি করপোরেশন সরাবে। প্রধান রাস্তাগুলোর অনেক ব্যানার-পোস্টার সরানো হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে হয়তো সব সরিয়ে ফেলবে তারা। এদিকে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের উপজেলা-পৌরসভা কোথায়ও আপাতত নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। সবগুলোই প্রশাসন দিয়ে সামান্য পরিসরে চলছে।





