ডিএসসিসির জরিপে ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিতে ২৯ ওয়ার্ড, লার্ভা মিলেছে ৩২২ বাড়িতে

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৭ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বিবেচনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপে দেখা গেছে, পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৫০টি বাড়ির মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

আরও পড়ুন: গার্মেন্ট আন্দোলনে হঠাৎ আগারগাঁও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে নগরে তীব্র যানজট-ভোগান্তি

জরিপের ফলাফলে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ড: ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ড।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪

মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ২৮টি ওয়ার্ড: ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১৮, ২৩, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭৩ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড।

সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি ওয়ার্ড: ৩, ৭, ১৭, ২৮, ৩৪, ৪১, ৪২, ৪৪, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬৩, ৬৬, ৭০, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।

সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।

সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক তথ্য সংগ্রহের সফটওয়্যার ‘কোবো টুলবক্স’ (KoboToolbox)। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে ব্রেটো ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কন্টেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI) ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সূচকের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, লার্ভা ও পিউপা পাওয়া ৩২২টি বাড়ির মধ্যে বহুতল ভবনে ৩১ দশমিক ০৬ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ৩১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেমিপাকা বাড়িতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, নির্মাণাধীন বাড়িতে ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খালি প্লটে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, লার্ভা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের বালতিতে—১৪ দশমিক ২১ শতাংশ। এ ছাড়া প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেইজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, এসব পাত্র ও স্থানে জমে থাকা পানির বিষয়ে নাগরিকেরা সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়েই এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাগরিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রশাসক জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া প্রতি শনিবার ডিএসসিসির নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।