গোয়েন্দা তথ্য ও আটককৃতদের স্বীকারোক্তি

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৯ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ও নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য, গ্রেপ্তারকৃতদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন ভিডিও, ম্যাসেজ ও ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের তথ্যে এ প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোও শনাক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক

শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর O'neill Razib নামের আইডি থেকে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামক ফেসবুক গ্রুপে আগুন দেওয়ার স্বীকারোক্তি দিয়ে দুটি পোস্ট করা হয়েছে। তার আসল নাম রাজীব চন্দ্র দাস বলে বাংলাফ্যাক্ট নিশ্চিত হয়েছে। অগ্নিসংযোগের দায় স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় রাজীব চন্দ্র দাস নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পোশাক শ্রমিকের ‘ছদ্মবেশে’ নাশকতার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৩ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গত মঙ্গলবার এক বার্তায় বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের’।

আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো মহল শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নেই। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কোনো কোনো মহল নিজেদের রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তা সত্ত্বেও চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের লুটপাটের অর্থ বিনিয়োগের সংযোগ থাকতে পারে।

পোশাক খাতের আন্দোলন ও নাশকতার প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই সরকার পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে এখন আর শ্রমিকদের মূল আন্দোলন বা দাবির যৌক্তিকতা থাকার কথা নয়। কিন্তু এর মধ্যেও যারা সহিংস আচরণ করছে, তাদের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না।

এদিকে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে ঢাকায় শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ২জন শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে ‘ঢাকাতে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ২জন শ্রমিক নিহত’ দাবি করে অপপ্রচার শনাক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এই কর্মসূচির একপর্যায়ে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওইদিন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের কয়েকজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক লোক সংগ্রহ করে আন্দোলনে যুক্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে। অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে ডিবি। নাশকতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে ২০-২৫টি অনলাইন গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে গোয়েন্দারা দাবি করেছেন। এসব গ্রুপে ছবি, ভিডিও এবং অবস্থানের তথ্য আদান-প্রদান হতো। কয়েকজনের মোবাইলে অগ্নিসংযোগের ভিডিও পাওয়া গেছে। গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। ১ নভেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

শ্রমিক নেতারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। এখন এই বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নতুন মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দাবি আদায়ের জন্য শ্রমিকরা রাজপথে নেমেছেন। সরকার দাবি পূরণের পথে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মতো আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে আন্দোলন ও নাশকতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই। বরং এগুলো রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ।

নাজমা আক্তার আরও বলেন, ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। গাজীপুরেও বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্টতায় পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিল্প-কারখানায় হামলা-ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে সরকারকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এই শ্রমিক নেতা বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও নতুন মজুরি নির্ধারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এখন দ্রুত নতুন মজুরি ঘোষণা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, শ্রম আইনে পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান যুক্ত হওয়ার বিষয়টি শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক। বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য এ পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিক-মালিক উভয়ে দুর্ভোগে পড়েন। জিনিসপত্র, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। তবে- এ দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে কেউ যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তাসলিমা আখতার বলেন, বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের উচিত মজুরি বোর্ডে নিজেদের দাবি তুলে ধরা। একইসঙ্গে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ ও ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস, টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ আলোচনা ও ধারাবাহিক বৈঠকের পর শ্রম আইনে সংশোধন এনে তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান করা হয়েছে। এটি শ্রমিকদের স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি বলেন, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছি। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দাবির মধ্যে সমন্বয় করে আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বোর্ড গঠনকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, এখন বোর্ডের কার্যক্রমের জন্য সময় দিতে হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিভিন্ন দাবি সমন্বয় করে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অতীতের মতো দীর্ঘ সময় না নিয়ে ঘন ঘন বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত মজুরি নির্ধারণ করা উচিত।

সালাউদ্দিন স্বপন আরও বলেন, বোর্ড গঠনের পর আন্দোলন, হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানো হলে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হতো।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের দাবি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন ও নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এখন সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত মজুরি নির্ধারণ এবং শিল্প-কারখানায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।