ভুয়া মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয়ে চাঁদাবাজি: গ্রেপ্তার সুফি সামস

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৭ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভুয়া মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে সুফি সাগর সামসকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, প্রতারণা এবং অর্থ আদায়ের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, সুফি সামস নিজেকে ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’-এর উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দিতেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে ডক্টরেটধারী বলেও দাবি করতেন। তবে তদন্তে এসব দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তিনি মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন এবং যে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অর্জনের দাবি করেছিলেন, তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ইতালির ভিসা জালিয়াতি: প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে পাঠানো, ৫৬ পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার ৭

ডিবি জানায়, সম্প্রতি ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়াহেদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত রোববার (৩১ মার্চ) অভিযান চালিয়ে সুফি সামসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, অভিযোগকারী সংসদ সদস্যকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে সুফি সামস তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগ পাঠান এবং পরে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া একটি বিষয় নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন মাধ্যমে তা প্রচার করেন। পরে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: সেই শাহেদ আবারো প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার

হারুন অর রশীদ আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সুফি সামস যে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের দাবি করেছেন, তদন্তে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তার এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ভুয়া সনদ তৈরি করে তিনি নিজেকে ‘ডক্টর’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, সুফি সামস নিজেকে ‘বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি (বিএইচপি)’-এর মহাসচিব বলেও পরিচয় দিতেন। তবে নির্বাচন কমিশনে এ নামে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নেই। বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুদকে অভিযোগ করার ভয় দেখিয়ে তিনি অর্থ আদায় করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ডিবি জানায়, সুফি সামসের বিরুদ্ধে মানবপাচারসংক্রান্ত একটি মামলাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।