অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার: টাঙ্গাইলে আরও ৪ জন গ্রেপ্তার

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৯ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ থেকে কমিশন রেখে ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে টাঙ্গাইলে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার একটি দল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। রাত ১১টার দিকে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

আরও পড়ুন: কবিরাজির বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসায় গিয়ে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ: চক্রের ০২ সদস্যকে গ্রেফতার

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাশালিয়ার বাবলু মিয়া (২৮), বাগীল এলাকার মো. মনির হোসেন (৩০), সখীপুরের জেলখানা মোড় এলাকার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) এবং তালেপাবাদ এলাকার শামীম আল মামুন (২৯)।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়া সাইটে ব্যবহারের জন্য নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পায় সিআইডি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: টাকা না দিলে ব্যবসায়ী ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি,পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ

এসব সাইটে ব্যবহৃত এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের পর সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করে। ১৭ মে ২০২৬ করা মামলাটিতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২), ২১(২), ২২(২), ২৪(২), ২৭(২) ও ২৯(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডির দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পারে—চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত। এসব হিসাব বেটিং সাইটে ব্যবহারের পর জুয়ার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন রেখে দিতেন।

এরপর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়া চক্রের অ্যাডমিন সদস্যদের কাছে সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

সিআইডি জানিয়েছে, একই মামলায় এর আগে বিভিন্ন অভিযানে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৭ জুন টাঙ্গাইলে সোলায়মান, সাগর মিয়া ও জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে রায়হান খান, পাভেল রহমান ভূইয়া ও আবু জোবায়ের সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া ১২ জুলাই নড়াইল থেকে জসিম উদ্দীন ও সুমন রায় এবং ১৯ আগস্ট রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।