পৈশাচিক বর্বরতা: স্ত্রীসহ পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার
নাটোরে সাত বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের একটি আঙুলের অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: আজিমপুরে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, হাতেনাতে আটক ১
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান জানান, ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
সদর থানা-পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রেপ্তার কনস্টেবল নাটোরে কর্মরত। তিনি স্ত্রী ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
আরও পড়ুন: মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রধান শিক্ষিকা নিহত, ২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে ওই কনস্টেবল বাসায় ফিরে শিশুটিকে জোর করে তাঁর বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ডান হাতের বিচ্ছিন্ন আঙুলের অংশ নিয়ে কান্না করতে করতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে।
শিশুটি তার মাকে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির বাবা একটি ব্যাংকে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান এবং শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনার পর ওই কনস্টেবল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, শিশুটি তাঁর মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। পরে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। তবে এ বিষয়ে মেয়েশিশুটির মা-বাবা কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে সেটিতে তালা দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, একই বাড়িতে থাকার কারণে পুলিশ সদস্যের মেয়ের সঙ্গে তাঁর ছেলের চলাফেরা ছিল। পিকনিকের অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও সেটি তেমন কোনো বিষয় ছিল না। তাঁর অভিযোগ, এরপর তাঁর ছেলেকে ঘরে নিয়ে অঙ্গহানি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মেয়েশিশুটির পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুক্রবার সকালে বলেন, তার মা-বাবা লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। তাঁরা মৌখিকভাবে মেয়েকে নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। তবে শিশুদের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বড়দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।





