এক দশকে ১.৪ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে, চাকরি পেয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ: বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ন, ১৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫১ অপরাহ্ন, ১৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

# অর্ধেকের কাছাকাছি কর্মক্ষম তরুণ বেকার 

#নারীরা আরও পিছিয়ে—

আরও পড়ুন: রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

# সংস্কার ত্বরান্বিত না হলে ঝুঁকিতে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান 

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় এগোলেও কর্মসংস্থানের চিত্র ততটা আশাব্যঞ্জক নয়—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক । সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেছেন, গত এক দশকে দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করা বিপুলসংখ্যক তরুণের প্রায় অর্ধেকই চাকরি পায়নি, যা ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। 

আরও পড়ুন: টানা তৃতীয় দিন কমল সোনার দাম

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে জোহানেস জাট জানান, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছেন। অথচ একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা জনসংখ্যাগত সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশেষ করে নারী অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, তরুণীদের জন্য শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ এখনো নানা কাঠামোগত ও সামাজিক বাধায় সীমাবদ্ধ, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে ব্যাহত করছে।

তিন দিনের সফর শেষে ঢাকা ত্যাগের আগে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর। আলোচনায় দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাব্য খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ইতোমধ্যে বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও সহায়তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ ও নারীদের জন্য টেকসই চাকরি সৃষ্টির উদ্যোগে সমর্থন বাড়ানো হবে।

তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে জোহানেস জাট জোর দিয়ে বলেন, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এসব সংস্কার বিলম্বিত হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সদস্যদেশগুলোতে এমন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক , যেখানে প্রবৃদ্ধি সরাসরি স্থানীয় কর্মসংস্থানে রূপ নেয়। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি ভৌত অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক । সংস্থাটি এ পর্যন্ত দেশটির জন্য ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ এবং স্বল্পসুদে ঋণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের দক্ষতা, শিল্পখাতের চাহিদা এবং বিনিয়োগের গতি—এই তিনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান বাড়লেও কর্মসংস্থান সেই হারে সম্প্রসারিত হচ্ছে না।

এই বাস্তবতায়, দ্রুত সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ—এই তিনটি ক্ষেত্রেই কার্যকর অগ্রগতি এখন সময়ের দাবি।