ঢাবির ৯৮ গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় গুরুত্বারোপ

Shahrier Islam Pallab
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২২ পূর্বাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ৯৮টি গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, কিউ১ ও কিউ২ জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ এবং গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এসব গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক ও সহ-প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ঢাবি মাস্টারদা সূর্যসেন হলের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং ৯৮টি গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক ও সহ-প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গবেষণা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মানসম্মত গবেষণা ও উদ্ভাবন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা এবং কিউ১ ও কিউ২ শ্রেণিভুক্ত জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের বিষয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের আরও মনোযোগী হতে হবে। সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত করা এবং সুনাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের ওপরও গুরুত্ব দেন উপাচার্য।

সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সমাজের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ও উদ্ভাবনমূলক গবেষণা পরিচালনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুগোপযোগী গবেষণার মাধ্যমে দেশের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে হবে। সামাজিক চাহিদা নিরূপণ এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের ক্ষেত্রে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং প্রকাশনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদার করতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট সামিট’ (Dhaka University Innovation and Impact Summit) আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গবেষণা, প্রকাশনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়িয়ে মানসম্মত স্টার্টআপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।