শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে একটি জাতিকে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব: শিক্ষামন্ত্রী

Sanchoy Biswas
গবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে একটি জাতিকে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৃজনশীল শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান।

শনিবার (১১ জুলাই) সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: বন্যা পরিস্থিতিতে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবসম্পদ। তাই প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ খাতে সরকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে। সবার ডাক্তার বা বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই; দক্ষ কারিগরি জনশক্তি তৈরি করেও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিতর্কচর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শুধু গবেষণাপত্র নকল না করে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন: দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২৮তম 'গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস' উদযাপন

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’ নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে মেধাবীরা বিদেশে গিয়ে স্থায়ী না হয়ে দেশে ফিরে আসেন। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার মতো পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় অর্থায়নের নতুন ধারণা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে অর্থ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। শিক্ষার্থী সেই অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে এবং সামর্থ্য হলে পরে ঋণ পরিশোধ করবে। এতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে, তাদের শিক্ষার পেছনে রাষ্ট্র কত অর্থ ব্যয় করছে এবং তাদের দায়বদ্ধতাও বাড়বে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে মেধার কোনো সীমানা নেই। শিক্ষকদের ভূমিকা হবে শিক্ষার্থীদের পথ দেখানো, আর শিক্ষার্থীদেরও জ্ঞান অর্জনে আরও কৌতূহলী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. তমিজ উদ্দিন এবং ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু।

এ সময় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, গকসু নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদ তন্বী এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ফুয়াদ হোসেন।