সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জনই চূড়ান্ত, বাকি একটি স্বতন্ত্র: নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বাস্তবতা
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে থাকলেও বাস্তবে ৫০টির মধ্যে ৪৯টি আসনের প্রার্থী ইতোমধ্যে চূড়ান্ত। দলীয় মনোনয়ন ও আসন বণ্টন আগেই নির্ধারিত হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ কার্যত নেই; এখন পর্যন্ত বাকি রয়েছে কেবল একটি স্বতন্ত্র আসন নিয়ে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘পূর্বনির্ধারিত ফলাফল’-এর আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত-এনসিপি জোটসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নের মাধ্যমে ৪৯টি আসনের প্রার্থী কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কেবল একটি আসন এখনো স্বতন্ত্রদের মধ্যে অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগেই নির্ধারিত ফল: সংরক্ষিত নারী আসনে ‘সংখ্যার গণতন্ত্র’, প্রতিদ্বন্দ্বিতা শূন্যে
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা বলছে—ভোটের আগেই অধিকাংশ আসনের ফল নির্ধারিত।
আসন বণ্টনেই নির্ধারিত ফল:
আরও পড়ুন: এনআইডি ডিজি হুমায়ুন কবীরের বদলি: জনপ্রশাসনে প্রত্যাবর্তন
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ আসনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি জোট পাচ্ছে ৩৬টি, জামায়াত-এনসিপি জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য থাকছে একটি আসন।
ফলে সংশ্লিষ্ট দলগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ কার্যত নেই।
বিএনপির ৩৬ জনের তালিকা:
বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের প্রাপ্য ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—
সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম, রেহেনা আক্তার, নিপুণ রায় চৌধুরী, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সানজিদা ইসলাম, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মানসুরা আক্তারসহ কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেত্রী।
দলীয় সূত্র বলছে, বাকি নামগুলোও একইভাবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, ফলে এই আসনগুলোতে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই।
জামায়াতের মনোনীতরা:
জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্ধারিত সংরক্ষিত নারী আসনে যাদের মনোনয়ন দিয়েছে, তারা হলেন—
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ এবং সামসুন নাহার।
এনসিপি ও অন্যান্য দল:
জামায়াত-এনসিপি জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন—
মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু।
এ ছাড়া জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিমও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।
১১–দলীয় জোট জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে।
মনোনয়ন জমায় বৈপরীত্য:
ইসি সূত্রে জানা গেছে, মোট ৪৬৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন মাত্র চারজন। এই চিত্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি অনীহা, কিংবা ফল আগেই নির্ধারিত—দুই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে।
নির্বাচন, নাকি আনুষ্ঠানিকতা? :
বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট না থাকায় নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অনেকটাই দলনির্ভর। দলগুলো প্রার্থী ঠিক করে দেয়, আর আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী তারা নির্বাচিত হন।
ফলে ৪৯ জন প্রার্থী আগেই চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার বাস্তবতায় নির্বাচন এখন কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন আবারও প্রশ্ন তুলেছে—গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বর্তমান পদ্ধতি কতটা কার্যকর?
৫০টির মধ্যে ৪৯টি আসন আগেই নির্ধারিত—এই বাস্তবতা সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।





