জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বিরোধ থাকলেও তা যেন কখনো ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক ২০২৬’ প্রদানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বহুমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজনদের হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের এই অনন্য সাধারণ অবদান বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এই সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
দেশের স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। এই দীর্ঘ পথচলায় অনেক অর্জনের পাশাপাশি এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বার্থান্বেষী একটি চক্র দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে তৎপর রয়েছে, তাই দেশপ্রেমিক জনগণকে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সজাগ থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তদন্তে কমিটি
প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব নিয়ে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের কষ্ট বিবেচনায় সরকার এখনও দাম বাড়ায়নি। বিপুল ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। এ সংকট মোকাবিলায় তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করার আহ্বান জানান।





