এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চমক সুবর্ণা ঠাকুর

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:২৪ পূর্বাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় স্থান পাওয়া গোপালগঞ্জের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনুসন্ধানে জানা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনে সনাতন ধর্মীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের ঠাকুরবাড়ির শিক্ষিত কন্যা সুবর্ণা শিকদারকে প্রার্থী ঘোষণা করে চমক তৈরি করেছে বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। অথচ বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; এমনকি কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তার অনুমতি ছাড়াই।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত আসনে স্বতন্ত্র জোটের মনোনয়ন পেলেন নাজিরপুরের মেয়ে জুঁই

জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ২৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। তালিকাটি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

অন্যদিকে, সোমবার বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। এতে ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের নাম। তালিকা প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ফ্ল্যাগভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে বন্যা প্রস্তুতিমূলক মহড়া অনুষ্ঠিত

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর গণমাধ্যমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম ছিল না আমার ইচ্ছায়। অনুমতি ছাড়াই আমাকে পদ দেওয়া হয়েছিল। আমি কখনোই আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।”

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও তথ্য-উপাত্তে আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নও চেয়েছিলেন। এখন তা অস্বীকার করা সঠিক নয়। রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য তিনি অবস্থান পরিবর্তন করছেন।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের বংশধর। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। তাদের বাড়িতে প্রতিবছর বড় ধর্মীয় উৎসব হয়। এখানে সারাদেশ থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ পূজা-অর্চনায় অংশ নেন। তাদেরই পূর্বপুরুষ হিটলু ঠাকুর এখানে তাদের ধর্মীয় আস্তানা গড়ে তোলেন। ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে রয়েছে তাদের পরিচিতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সুবর্ণা শিকদারের ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে পূজা-অর্চনায় অংশ নেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশে আলোচিত হয়ে ওঠে কাশিয়ানীর মতুয়া ঠাকুরবাড়ি। বিএনপির ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য হাজারের বেশি নারী নেত্রী মনোনয়ন ফরম জমা দিলেও সুবর্ণা শিকদারের মনোনয়ন চমক তৈরি করেছে।