নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, মনিরা শারমিনের প্রার্থীতা ঘিরে আটকে আছে গেজেট

Sanchoy Biswas
এম এম লিংকন
প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৫ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে উদ্ভূত বিরোধের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে পুনঃযাচাই-বাছাই শেষে এনসিপি সমর্থিত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতার মধ্যে বহুল আলোচিত প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়ন অবশেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।  তবে, এনসিপির আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি এখনোআদালতে বিচারাধীন থাকায় এই আসনটির গেজেট আটকে আছে।  

শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মইন উদ্দিন খান এ ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, গেজেট বৃহস্পতিবার

তিনি জানান, হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর দাখিলকৃত কাগজপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আইনগত কোনো অসংগতি পরিলক্ষিত না হওয়ায় মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কের স্বাক্ষর যথাযথভাবে উপস্থাপিত হওয়াকে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী গত ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি মনোনয়নপত্র জমা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই পুনঃযাচাই শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। 

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৮৮টি ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ

নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে তিনি সংবিধান ও গণতান্ত্রিক আদর্শের আলোকে জনস্বার্থে কাজ করবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তার আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, আদালতের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন করে নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে এবং এটি আইনের শাসনের প্রতিফলন। একইসঙ্গে তিনি মনিরা শারমিনের বিষয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রায়ের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, একই আসনে এনসিপির আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় লিখিত আদেশ প্রাপ্তির পূর্বে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের চাকরি ত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুসারে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে তিনি এ বিষয়ে আদালতে আপিল দায়ের করেছেন। 

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে ৪৯টি আসনে প্রার্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের ১২ জন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অবশিষ্ট আসনের বিষয়ে আদালতের রায় ঘোষিত হলে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে এবং তফসিল অনুযায়ী ১২ মে নির্ধারিত নির্বাচনের আর প্রয়োজন হবে না।