বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুথিরা
ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ময়উন বা পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি গোষ্ঠী।
পেরিম বা ময়উন দ্বীপটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান বাব আল-মান্দেব প্রণালির একেবারে মাঝখানে।
আরও পড়ুন: আবারও মাটির নিচে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ থেকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান সেখানে পৌঁছে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেবের উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে করে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০৮ ডলার, বাড়ছে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা
প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অন্যদিকে সুয়েজ খালে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব অনেক। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্র উপকূলীয় তেলক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এর আগে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
এখন হুথিরা প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।





