আবারও মাটির নিচে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান
ইরান আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। দেশটির বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও সংযোজন করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান মজুত করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে। পাশাপাশি কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০৮ ডলার, বাড়ছে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের বেশ কয়েকটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আবারও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত খজির ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাও রয়েছে।
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে যাতে এসব স্থাপনা আবার হামলার শিকার না হয়, সে জন্য ইরান নতুন ভূগর্ভস্থ কারখানা নির্মাণের চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিন
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশটির প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা।
দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধের জন্য নির্ধারিত সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, “প্রতিটি সামরিক সূচকের বিচারে আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “সেন্টকম ইরানের হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র উৎক্ষেপণের ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ-শিল্প অবকাঠামোর ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস করেছে।”
এর আগে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি “কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে”।
তবে নতুন প্রতিবেদনে ইরান আবারও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজন শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কতটা পুনরুদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল





