ইরানে তাৎক্ষণিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করলেন ট্রাম্প

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৬ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৫ অক্টোবর) ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে জোরালো আলোচনা তৈরি হলেও আপাতত সেদিন হামলা না চালানোর কথা স্পষ্ট করেন তিনি। তবে তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে।

রোববার মিশিগানে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ কথা বলেন। ইরানে সেদিন হামলা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, ‘আমি কি আপনাদের তা আগেভাগে বলে দেব?’ এরপর স্পষ্ট করে জানান, সেদিন কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের

এর আগে রোববার দিনের প্রথম ভাগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি পথ—ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, অথবা দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানো। তাঁর এই বক্তব্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে এই পথ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক বা কৌশলগত সুবিধা নিতে পারছে না।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

তবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে অথবা একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরান নিজের প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক হামলা না চালানোর বক্তব্যকে কূটনৈতিক ও সামরিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সামরিক অভিযান হবে না, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।