ইসরায়েলের হাতে আটক ‘ফ্লোটিলা’র মানবাধিকারকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র মানবাধিকার কর্মীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ‘গাজার অবরোধ ভাঙা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কমিটি’। খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলার শিকার ফ্লোটিলার জাহাজগুলোতে আটক কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, আটক হওয়ার মুহূর্ত থেকেই তারা অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: শেষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা সংঘাতের নিন্দা
কমিটি জানায়, এই কর্মীদের আটক ও বন্দি করার সময় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেছেন।
মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং গাজার ওপর ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে সম্প্রতি সমুদ্রপথে যাত্রা করেছিল ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ইসরায়েলি নৌবাহিনী প্রায় ৪৪টি জাহাজে হামলা চালিয়ে দখল নেয় এবং ৫০টিরও বেশি দেশের অন্তত ৪৫০ জন কর্মীকে আটক করে।
আরও পড়ুন: পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন
২০০৭ সালে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল বিভিন্ন মাত্রায় অঞ্চলটির ওপর অবরোধ চালিয়ে আসছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিরা কার্যত গাজার ভেতরেই বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। খাদ্য, পণ্য ও ত্রাণসামগ্রীর প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল।
এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হামাসকে দমন করার অজুহাতে গাজায় ইসরায়েল যে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে, তাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সেখানে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়।
‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ অভিযানে অংশগ্রহণকারী আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আদা কোলাউ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান। বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছেন মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।
খবর পাওয়া গেছে, আটক কর্মীরা মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং অবরোধ ভাঙার জন্য তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবেন।





