এনডিটিভিকে সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির

ক্ষমতায় গেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেবে জামায়াত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:০১ অপরাহ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির বলেন, ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও আস্থার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পক্ষেই রয়েছে তার দল।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং এটিকে আমরা নীতিগতভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

একই সাক্ষাৎকারে তিনি সংখ্যালঘু ইস্যুতে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে সকল নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী। তার ভাষায়, “আমরা সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বিভাজনে বিশ্বাস করি না। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার প্রশ্নই ওঠে না। প্রত্যেকেই এই দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক।”

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

ভারত সফরের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির জানান, নির্বাচনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “ভারতে সফর নিয়ে আমার কোনো দ্বিধা নেই। নির্বাচন শেষ হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৬ মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধভাবে অংশ নিচ্ছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

বিতর্ক ও অভিযোগ

যদিও নির্বাচনে জামায়াতের ভালো ফলের ব্যাপারে সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে, তবুও দলটির বিরুদ্ধে অতীতে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কখনো ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।