ঢাবিতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনা নিয়ে সেমিনার

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সেমিনারে উপাচার্য বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি মুসলমানের জাগরণের সময়ে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা একজন রেনেসাঁপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে ঢাবির বিজয় একাত্তর হলে গঠিত হচ্ছে ফিল্ম ক্লাব

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আহ্ছানউল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনবদ্য অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর কাছে অশেষ ঋণে আবদ্ধ।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে ‘বাংলার স্যার সৈয়দ’ হিসেবে অভিহিত করে উপাচার্য বলেন, স্যার সৈয়দ আহমদ খান ও খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা উভয়েই মুসলিম সমাজকে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সমাজের কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতা দূর করতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন: ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক তাহ্সিনা রহিমের ইন্তেকাল, উপাচার্যের শোক

উপাচার্য আরও বলেন, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন এবং ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবন, আদর্শ ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এইচএম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আলহাজ্জ আতাউর মাহমুদ রানা এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ আমেরিকান মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যামফোর্ড রাহমাতুল্লিল আলামীন জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এমএফএম এনামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান।

সেমিনার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার রচিত ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার চিন্তন ও রচনায় ফারসি ভাব-দর্শনের প্রভাব’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।