চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৩ অপরাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলাকালে বিশ্বশক্তির চাপের কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, “বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু তারা যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।”

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গ, সমালোচনায় মুসলিম অধিকার সংগঠন

ট্রাম্পের হুমকি ও নৌবহর মোতায়েন

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তেহরান যদি ১০ দিনের মধ্যে চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। পরে তিনি সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করেন। শুক্রবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি বিবেচনা করছি।”

সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড  জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। এর আগে জানুয়ারিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়।

জেনেভা আলোচনা ও খসড়া প্রস্তাব

চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। এরপর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে।

তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই খসড়া প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর তা মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আরাঘচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে বলেনি এবং ইরানও কোনো স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দেয়নি।

মার্কিন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনার মূল বিষয় হলো—ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যার মধ্যে সমৃদ্ধকরণও রয়েছে, তা কীভাবে নিশ্চিতভাবে শান্তিপূর্ণ রাখা যায়।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।