আলোচনাকে ‘আত্মসমর্পণের চাপ’ বলছে ইরান, নতুন পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আলোচনাকে ‘আত্মসমর্পণের কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ঘালিবাফ বলেন, হুমকি ও সামরিক চাপের মধ্যে কোনো সংলাপ ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, আলোচনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তা আত্মসমর্পণের সমান—যা তেহরান মেনে নেবে না।
আরও পড়ুন: ইরানের জাহাজ আটক: উত্তেজনা বাড়ছে, শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরানও নতুন কৌশল নিয়ে জবাব দেবে। গত দুই সপ্তাহে দেশটি ‘নিষ্ক্রিয় ছিল না’ বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে ৮ এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যে ইসলামাবাদ-এ উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে ‘আজই’ চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে: ট্রাম্পের দাবি
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রশাসন হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।





