বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:০৫ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। চার মাস ধরে চলা সংঘাত ও সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অস্ত্রবিরতির আবহে বিনিয়োগকারীরা এখন সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের আগস্ট মাসের ফিউচার চুক্তির দাম ১ দশমিক ০৩ শতাংশ বা ৭৫ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে সেপ্টেম্বর মাসের ব্রেন্ট কন্ট্রাক্ট ৪০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে ৭৩ দশমিক ৫১ ডলারে লেনদেন হয়।

আরও পড়ুন: ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে কৃষিজমির একটি বড় অংশ দখলে নিলো চীনা সেনাবাহিনী

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৪৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও দোহা বৈঠক ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে— এমন প্রত্যাশায় বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বিনিয়োগকারীরা সতর্ক আশাবাদ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: পানিতে হাত দিলে হাত কেটে ফেলব: পাকিস্তানি মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

তবে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে এখনো উভয় পক্ষের অবস্থানে স্পষ্টতা নেই। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ট্রানজিট পথ নিয়ে ওমানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে তেহরান। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের আলোচনার পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দোহা বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে— সময়ই এর ফলাফল নির্ধারণ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ১৭ জুন হওয়া অস্ত্রবিরতি কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব তেল সরবরাহে যেকোনো বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে শিপিং ডাটার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল ও এলএনজি রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে জুলাইয়ের শুরুতেই পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল সরবরাহ যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের দৈনিক প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে ফিরে যেতে পারে।