সৌদি আরব যুদ্ধে জড়ালে তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি হুথিদের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে সৌদি আরব সরাসরি জড়িয়ে পড়লে দেশটির সব তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ সতর্কবার্তা দেন গোষ্ঠীটির প্রধান আব্দুল মালিক আল-হুথি।

গত সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা। এর মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর এবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিল গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ হাজার

এর আগেও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। ২০১৯ সালে সৌদির দুটি বড় তেল স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছিল তারা। ওই হামলার কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পরে ২০২২ সালেও সৌদি আরবের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, জেদ্দায় আরামকোর একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় সেখানে আগুন ধরে যায়।

আরও পড়ুন: ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ৭, আহত ৯

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে আব্দুল মালিক আল-হুথি বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। সানা বিমানবন্দরে হামলার জবাবে রিয়াদ বিমানবন্দর, বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দর, বন্দরের বদলে বন্দর এবং অবরোধের বদলে অবরোধ।”

হুথিদের হাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা চলে যাওয়ার পর দেশটিতে এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেন এডেনভিত্তিক সৌদি-সমর্থিত সরকার এবং সানাভিত্তিক হুথি প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে।