রাতের আঁধারে ফ্লাডলাইটের তার চুরি: নিরাপত্তা সংকটে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম!

Sanchoy Biswas
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৯ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সবুজ পাহাড় আর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বিপিএলসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচের সাক্ষী এই স্টেডিয়ামটি এবার আলোচনার শীর্ষে; তবে এবার কোনো খেলার জন্য নয়—বরং চুরির ঘটনার জন্য।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতের কোনো এক সময় স্টেডিয়ামের চারটি ফ্লাডলাইট টাওয়ারের একটিতে থেকে প্রায় ২৫ মিটার ইলেকট্রিক তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া তারের বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘটনার পর থেকে ওই টাওয়ারের ফ্লাডলাইট অচল হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: আকাশপথেই থেমে গেল স্বপ্ন: বাড়ি ফেরা হলো না ইতালি প্রবাসী ফখরুলের

এ ঘটনায় বিসিবির পরিচালক, স্টেডিয়ামের নিয়োজিত নিরাপত্তা পরিচালক, সিসিক প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, চুরির ঘটনা দুই দিন পর জানাজানি হওয়ায় সঠিক তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দেশসেরা এই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ব্যবসায়ীকে কানে কামড়ের অভিযোগ, বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, স্টেডিয়াম থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ফ্লাডলাইটের তার চুরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে সম্পূর্ণ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, স্টেডিয়াম থেকে প্রায় ২৫ মিটার তামার তার ও কিছু বৈদ্যুতিক তার কাটা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকার কিছু বেশি। ৩৫ লাখ টাকার তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চুরির ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, একটি আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুর নিরাপত্তা নিয়ে এমন ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক।

এছাড়াও স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজারসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সব কর্মীর দিকে প্রশ্ন তুলেছেন বিসিবি বোর্ডের কর্মকর্তারা।

বিসিবি পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, স্টেডিয়ামের ভেন্যুতে ফ্লাডলাইটের তার চুরির ঘটনায় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের গাফিলতি রয়েছে। রাতের বেলায় চুরি হলে সিকিউরিটি গার্ডকে তিনি দায়ী হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা রাষ্ট্রের সম্পদ। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি চুরির ঘটনাকে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্পষ্ট দুর্বলতার প্রকাশ বলে মনে করেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিসিবি পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আনুমানিক ২৪ মিটার তার মাদকসেবীরা চুরি করে নিয়ে গেছে। এখানে পাশেই লাক্কাতুরা চা-বাগান। এই চা-বাগানে অনেক নেশাখোরের আনাগোনা হয়। নিশ্চিত এদের মধ্যেই কেউ চুরি করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। চুরির সঙ্গে যদি স্টেডিয়ামের কোনো স্টাফ জড়িত থাকে, তাহলে চাকরিচ্যুতসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিকিউরিটি কো-অর্ডিনেটর আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, স্টেডিয়ামের পশ্চিমে অবস্থিত গ্রিন গ্যালারির পাশের টাওয়ার থেকে রাতের অন্ধকারে দুইজন চোর প্রায় ২৪ মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরি করে নিয়ে গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট মহানগরের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, বিসিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে নির্মিত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হয় ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচের মাধ্যমে। এরপর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজ, বিপিএলসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বিসিবি।

এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকা প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম ক্রিকেট ৩৬৫। সেখানে বিশ্বের সাতটি নান্দনিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশের সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।