১৪ দিনের মধ্যে রোডম্যাপ তৈরি

গাজায় নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনায় সম্মত হামাস: ট্রাম্প

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪০ পূর্বাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজায় নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা সংবলিত একটি নথিতে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠন সম্মতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনাকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: পোল্যান্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ, আকাশে যুদ্ধবিমান মোতায়েন ন্যাটোর

প্রকাশিত চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণের বিস্তারিত রোডম্যাপ ১৪ দিনের মধ্যে প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক যাচাইকারী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে সময় বাড়ানো যাবে।

হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেন, দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার পর বাস্তবসম্মত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েল যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ কার্যকর করবে না।

আরও পড়ুন: মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

তিনি জানান, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়ার ওপরই নিরস্ত্রীকরণ নির্ভর করবে।

এ বিষয়ে এখনো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত বোর্ড অব পিস-এর উদ্যোগে এই সমঝোতা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের পথ তৈরি হবে, যা বোর্ড অব পিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং গাজাকে আর সশস্ত্র হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না।

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র গাজার প্রশাসনের জন্য গঠিত ন্যাশনাল কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে। প্রথমে পুলিশের অস্ত্র এবং পরে ভারী অস্ত্র ধাপে ধাপে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গাজায় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

অন্যদিকে মিসরের কায়রোয় হামাসের প্রতিনিধিরা মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে শিগগিরই আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ জানিয়েছে, গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক নয়। তারা খসড়া চুক্তির কিছু ভাষা নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে।

এদিকে হামাস এরই মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে গাজা পরিচালনাকারী নিজেদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে গাজায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।