শিশুদের টিকা ১৮ থেকে ১১টিতে কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাক্ষর করা এক নির্বাহী আদেশে শিশুদের জন্য নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা টিকার সংখ্যা ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় শিশুদের জন্য হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, পোলিও, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল রোগ, মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) এবং জলবসন্তের টিকা রাখার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল
একই সঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সম্মিলিত এমএমআর টিকা একসঙ্গে না দিয়ে তিনটি আলাদা টিকা আলাদা সময়ে দেওয়ার প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে।
টিকা কমানোর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ট্রাম্প কয়েক দশক আগে শিশুদের তুলনামূলকভাবে কম টিকা দেওয়া হতো বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে অটিজমের হার বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১১১
তবে টিকা, বিশেষ করে এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ বহু গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
২০১৯ সালে ডেনমার্কে ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬১ শিশুর ওপর পরিচালিত একটি বড় গবেষণাতেও এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এমএমআর টিকা একসঙ্গে দিলে ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, এমএমআর টিকার গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি খুবই কম। সংস্থাটির মতে, হাম, মাম্পস বা রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় এমএমআর টিকা নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।
এ ছাড়া এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করার কোনো বৈজ্ঞানিক সুবিধা রয়েছে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন শিশু চিকিৎসকদের সংগঠনসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও রাজনীতিক।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি অ্যান্ড্রু রাসিন এই উদ্যোগকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, শিশুদের টিকা দেওয়া বিলম্বিত করা বা বাদ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে হাম ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতিতে।
রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিওও সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর এবং টিকার কারণে অটিজম হয় না।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য টিকাদান বন্ধ করা নয়; বরং অভিভাবকদের সন্তানদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে আরও বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য কোন টিকা বাধ্যতামূলক হবে, সেই সিদ্ধান্ত মূলত অঙ্গরাজ্যগুলো নিয়ে থাকে। ফলে প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী নির্দেশনা সরাসরি সব অঙ্গরাজ্যের টিকাদানসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করে না।
তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, টিকা নেওয়ার হার কমে গেলে হামসহ টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রকোপ আবার বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান টিকাদান নীতিতে শিশুদের বয়স ও রোগের ঝুঁকি বিবেচনা করে টিকা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়।





