তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৯ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ সংবিধানের আরও দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে এসব বিধান পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

সভায় দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন। সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই লিখিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান কমিটির সভাপতি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মতবিনিময় সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের লিখিত প্রস্তাবও দিতে বলা হয়েছে। এসব মতামত কমিটিতে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার সমন্বিত কেন্দ্র বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: ডা. রফিক

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবারই তাদের আহ্বান জানিয়েছি এবং আহ্বান জানাই। তারা যখনই এই কমিটিতে যোগদান করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। আপনাদের যেসব বক্তব্য আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যেগুলো গ্রহণযোগ্য, সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা গ্রহণ করব।’

তিনি বলেন, বিরোধী দল আলোচনায় অংশ নিলে তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অনেক বিষয়ও কমিটির আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হতো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মধ্যে পক্ষ থাকুক, বিভক্তি না। জুলাই জাতীয় সনদ আমরা যেভাবে সই করেছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে যেসব বিষয় আলোচনায় আসেনি বা বাদ পড়েছে, সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।’

জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলো ধারণ করব।’

গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে যেন জনগণের অনুমোদন নিতে হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে যেহেতু আমরা একমত হয়েছি, আমরা ধারণ করব। ভবিষ্যতে কোনো পার্লামেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট করে সেটা পরিবর্তন করতে গেলে যেন গণভোটে যেতে হয়, এই চারটা বিধানের সঙ্গে এই দুইটা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একমত হয়েছি। এটা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল।’

তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেসব বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জন্য তারা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিল আনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের প্রথম অধিবেশন অর্থাৎ জানুয়ারি সেশনে বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।