মোদি-জিনপিং বৈঠকের আগে বন্ধুত্বের সুর, বদলাচ্ছে দিল্লি-বেইজিং সমীকরণ
ভারতের মাটিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের আগেই নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে বেইজিং। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে চীন।
জিনপিংয়ের ভারত সফরের আগে চীনা রাষ্ট্রদূতের এমন বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারত সফর শেষে নিজেরই বর্জ্য সঙ্গে নিয়ে রাশিয়া ফিরবেন পুতিন
রাষ্ট্রদূত জানান, কাজান ও তিয়ানজিনে বৈঠকের পর এটি হবে দুই নেতার টানা তৃতীয় সাক্ষাৎ। দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের কৌশলগত নির্দেশনায় চীন ও ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জু ফেইহং বলেন, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনা, সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান মতপার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি চীন ও ভারতকে ভালো প্রতিবেশী, বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগী এবং পরস্পরের সাফল্যে সহায়তাকারী অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
দীর্ঘ সময়ের টানাপোড়েনের পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ভারত সফর করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এরপর গালওয়ান সংঘর্ষ, সীমান্ত উত্তেজনা, ডোকলাম এবং অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক মতপার্থক্য আরও গভীর হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের বৈঠক আঞ্চলিক রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারত-চীন সম্পর্কের এই পরিবর্তনের দিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও নজর রাখছে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে জিনপিংয়ের দিল্লি সফর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ এবারের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফর এবং মোদি-জিনপিং বৈঠক ঢাকার জন্যও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও চীনের সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও সহযোগিতামূলক হলে এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক কূটনৈতিক সমীকরণেও পড়তে পারে।
একই সঙ্গে ভারত ও চীনের সম্পর্কের এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখবে যুক্তরাষ্ট্রও। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি চীন ভারতের বৃহৎ প্রতিবেশী ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি।
ফলে মোদি-জিনপিং বৈঠকে সীমান্ত ইস্যুর পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে কী ধরনের বার্তা আসে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।





