আলোচনায় প্রস্তুত ইরান

মার্কিন হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি আরাঘচির

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৬ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে নতুন করে সামরিক হামলা হলে তার জবাব দিতেও ইরান প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরান একই সঙ্গে কূটনীতি ও যুদ্ধ—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। তিনি জানান, সংঘাত আবার শুরু হলে ইরানের সামরিক কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আহ্বান ইরানের

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গেও কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন খবর ইরান শুনেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। 

আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরান প্রস্তুত। তাঁর দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ষষ্ঠ দিনে প্রণালি খুলে দেওয়া হতে পারে। এরপর সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: আগ্রাসন হলে ‘নতুন সামরিক প্রযুক্তি’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের দাবি অনুযায়ী, প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে। 

তবে মার্কিন পক্ষ ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরান আলোচনার আগেই নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়েছে। 

আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের আস্থার সংকট রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের আলোচনার সময়ও ইরানের ওপর হামলা হয়েছে এবং সমঝোতা হওয়ার পর সেটি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

জুনে হওয়া সমঝোতা ইরান প্রথম লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে ইরান সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে, তাহলে সামরিক হামলার পরিবর্তে চুক্তিতে থাকা বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যেত।

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে আরাঘচি বলেন, আগের সংঘাত থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে এবং সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে ইরান যেকোনো নতুন হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা রাখবে তেহরান। 

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। ফলে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।