তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী আবারও রিমান্ডে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) আবারও রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: ৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর
এর আগে, চার দিনের রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: চার দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন জেরিকা তাসনীম দিশা। এ ছাড়া ঘটনার আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’-এ গিয়েছিলেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এ মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে দিশাকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। নিহত তাহসিফের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে অবস্থান এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তার একাধিকবার ফোনে কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঘটনাস্থল নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার জন্য তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে গত ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর তার ছেলে কে এম তাহসিফ সাউরি দীপ নামে এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন। রাত বেশি হলেও ছেলে ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান।
এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাহসিফের ফোন থেকে তার মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরদিন বিকেল হলেও তিনি বাসায় ফেরেননি।
পরে ২৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে নৌ পুলিশ ফোনে তাহসিফের বাবাকে জানায়, উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ পুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফকে দাফন করা হয়।





