আপিল বিভাগের রায়

২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন সুবিধা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে কোনো কর্মচারী পেনশন সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ বলেছেন, ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগকারী সরকারি কর্মচারী পেনশন বা সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন।

বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ গত ১১ মার্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আরও পড়ুন: সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

রায়ে বলা হয়, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে এমন বিধান করেছে যে, সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন সুবিধার অধিকারী হবেন না।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। চাকরির ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ পদে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার

পরে ২০১৫ সালে ১৯ বছরের চাকরিকালের ভিত্তিতে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক মঞ্জুরের আবেদন করেন তিনি।

একই বছরের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং তা পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য থাকে না। এছাড়া ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি পেনশন পাওয়ার যোগ্য নন।

এরপর ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন মাহবুব মোরশেদ।

২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট রায়ে সরকারি চিঠিটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন এবং চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তার পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে গণনা ও মঞ্জুর করার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদন গ্রহণ করে এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন।

রায়ের বিষয়ে মাহবুব মোরশেদ জানিয়েছেন, রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।