সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টে কারফিউ জারি করে গণহত্যায় উসকানি, প্ররোচনা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ দেওয়া হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে আদেশ দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বৈধ ঘোষণা: হাইকোর্ট

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ আদেশের দিন ধার্য করেন। এর আগে ৬ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে তিনি তার মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

শুনানিকালে আসামিপক্ষ প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয় বলে অস্বীকার করে। একই সঙ্গে বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার আবেদন জানানো হলেও ট্রাইব্যুনাল গত ৪ জানুয়ারি সেই আবেদন নাকচ করে দেন।

আরও পড়ুন: ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিট

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তারা কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাদের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ফলে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন। অথচ এসব নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।

এছাড়া প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্তে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সালমান ও আনিসুল। ১৯ জুলাই তারা ফোনে একাধিকবার কথা বলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে’ দেওয়ার কথা শোনা যায়। কারফিউ জারির মাধ্যমে ওই রাতেই আন্দোলন দমন করার নির্দেশ দেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক—এমন দাবি তুলে ধরে অডিও রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

গত ২২ ডিসেম্বর শুনানির সময় অডিও রেকর্ডসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানানো হয়। এর আগে ৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নেন এবং একই দিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।