তিন বছরের বিধিনিষেধে থামলেন মনিরা : আপিলের ঘোষণা

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৪ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে আইনি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি চাকরি ছাড়ার পর বাধ্যতামূলক তিন বছর অতিক্রম না করায় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর নথিপত্রে ঘাটতি ধরা পড়ায় তা পূরণের জন্য নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছিল। প্রার্থী সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও আইনি বাধা কাটাতে পারেননি।

আরও পড়ুন: এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রিটার্নিং কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসন সংক্রান্ত বিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১২ (চ) ধারা পর্যালোচনায় দেখা যায়—কোনো স্ট্যাটিউটরি পাবলিক অথরিটিতে কর্মরত ব্যক্তি চাকরি ছাড়ার পর কমপক্ষে তিন বছর অতিক্রান্ত না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন না। মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন এবং তার চাকরি ছাড়ার পর নির্ধারিত সময়সীমা পূর্ণ হয়নি। ফলে তার মনোনয়নপত্র আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

এদিকে মনোনয়ন বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মনিরা শারমিন বলেন, তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আপিল করবেন। তার দাবি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে কি না—তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

আরও পড়ুন: হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখতে রিট শুনবেন হাইকোর্ট

প্রসঙ্গত, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না—এই বিধানই তার প্রার্থিতা বাতিলের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনী সমীকরণে এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্যও কম নয়। সংশ্লিষ্ট আসনে প্রার্থী না থাকায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা একটিতে কমে যেতে পারে। ফলে তাদের জন্য নির্ধারিত ১৩টি আসন ১২টিতে নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আসনটি উন্মুক্ত হয়ে নতুন তফসিলে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিবেচনায় এ আসনে বিএনপি জোটের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দুই দিনের যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র মোর্চার একজনসহ মোট ৪৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।