স্বাধীন সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, শুনানি ১৬ জুন

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫২ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:৫২ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত জানান, আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর থাকবে না।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়। গত ২১ মে এ রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল দায়ের করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মামলার রায় মঙ্গলবার

চলতি বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর আগে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়টি প্রদান করেন।

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের একটি বিধান বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারিক দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের শৃঙ্খলাবিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

সংবিধানের বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত, যা তিনি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করেন।

রিটকারীদের দাবি, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান হলো, সংবিধানে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বর্তমান ব্যবস্থাই কার্যকর রয়েছে।

বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে।