সাবেক ভিসিসহ ৩০ জনের সাজা বহাল

আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৬ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ৩০ আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত এই পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ, অপরাধ প্রমাণের ভিত্তি, শাস্তি নির্ধারণের কারণ এবং মামলার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাপলা চত্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একজনের হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এমপি সরোয়ার আলমগীরের সংসদে যোগদানে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজন হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়।

১০ বছরের কারাদণ্ড

১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ড. হাসিবুর রশীদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রনেতা। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, এদের সবাই বর্তমানে পলাতক।

অন্যান্য সাজা

এছাড়া আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ-এর ক্ষেত্রে হাজতবাসের সময়কেই সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, নথিপত্র ও অন্যান্য উপাদান পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।