ছেলের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণ
বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নং কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে ভেতরে ঢুকে ছেলের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে একই এলাকার মোঃ আফাজ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মোঃ আফাজ সদরের সিংড়াবুনিয়া এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের মৃত নুর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে।
আরও পড়ুন: নিকলীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর নারীর স্বামী কাজের তাগিদে বরিশালে অবস্থান করে অটোরিকশা চালান। বাড়িতে তিনি তাঁর দুই শিশু সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে বসবাস করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে সম্পর্কে তাদের প্রতিবেশী চাচা হন।
গৃহবধূ বলেন, গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাতে আমার এক বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে আমার বসত ঘরের ভেতরে ঘুমিয়েছিলাম এবং ভারসাম্যহীন শাশুড়ি পেছনের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই রাতে আনুমানিক ০৩:৩০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত মোঃ আফাজ বসতঘরের উত্তর পাশের টিনের বেড়া ছুটিয়ে চুপিসারে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে। এর পরে আমার বাচ্চা গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার সাথে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়া-ধামরাইয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা
তিনি আরো বলেন , ধর্ষণ শেষে আফজাল তোষকের নিচে রাখা কিস্তির টাকা ও বাজারের জন্য রক্ষিত নগদ তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। আমি ডাক- চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত আমাকে খুন-জখমের হুমকি প্রদান করে রাত আনুমানিক ০৪:৩০ ঘটিকার সময় ঘরের বাইরে বৈদ্যুতিক লাইটের আলোতে পালিয়ে যায়, আমি পিছন থেকে তাকে দেখে চিনতে পারি
ঘটনার পর প্রতিবেশী খাদিজার কাছে ঘটনার কথা বলেন। লজ্জায় আত্মহত্যা করার কথা বলেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ । ঘটনার কথা শুনে প্রতিবেশী খাদিজা তাকে আইনি সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেয়।
এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী জুলাস মিয়া বলেন, আমি আমার জীবনের তাগিদে বরিশাল বিভাগীয় শহরে অটোরিকশা চালাই। ঘটনার কথা শুনে আমি ৯৯৯ নাইনে ফোন করে পুলিশকে জানাই। অভিযুক্ত আফাজ সম্পর্কে আমার চাচা হয়। ও আমার স্ত্রীর সাথে এরকম পশুর মত কাজ করেছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবু শাহাদাত হাসনাইন বলেন, এই ঘটনায় বরগুনা সদর থানা একটি মামলা রুজু হয়েছে। বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত করতেছি। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





