শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৬ পূর্বাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের নামও রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ ও র‌্যাব প্রধান এবং ডিএমপি কমিশনারকেও আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মামলার রায় মঙ্গলবার

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: প্রেম-রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

তিনি আরও জানান, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। পাশাপাশি মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান। রোববার সকালে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)-এর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে শাপলা চত্বর খালি করা হয়। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগের ঘটনায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।