কেন করলা খাওয়া জরুরি?

বাংলাবাজার পত্রিকা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ন, ০৯ জুলাই ২০২৩ | আপডেট: ৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, ০৯ জুলাই ২০২৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তেতো হলেও করলা সবজিটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। করলার রস শরীরের জন্য বেশ উপকারী। করলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি ও সি ছাড়াও রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেসিয়াম। গবেষণায় দেখা গেছে যে বিভিন্ন প্রকার রোগের প্রকোপ কমাতে করলার জুড়ি নেই। প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ১৭ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেটস ৩.৭০ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, ফাইবার ২.৮০ গ্রাম, ফোলেট ৭২ মাইক্রো গ্রাম, নিয়াসিন ০.৪০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৪৭১ আইইউ, ভিটামিন সি ৮৪ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২৯৬ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৭ মিলিগ্রাম। করলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে জেনে নিই-

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে

আরও পড়ুন: রাতে তরমুজ খেলে হতে পারে যে সমস্যা, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

করলায় রয়েছে ক্য়ারেটিন যা রক্তের সুগারের মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। যারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করলার রস থেকে অনেক উপকার পেতে পারেন।

রক্ত পরিশুদ্ধ রাখাতে

আরও পড়ুন: হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজলে কী করবেন? জেনে নিন প্রয়োজনীয় করণীয়

সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে রক্ত পরিশুদ্ধ থাকা জরুরী। আর এজন্য প্রতিদিন করলার রস খাওয়া শুরু করতে পারেন কারণ এই পানীয়টিতে "ব্লাড পিউরিফাইং এজেন্ট"  উপস্থিত  থাকে যা রক্তকে পরিশুদ্ধ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।  

পেটের রোগের প্রকোপ কমাতে

করলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি নানাবিধ স্টমাক ডিজঅর্ডারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবজিটির ফাইবার শরীরে প্রবেশ করা মাত্র গ্যাস্ট্রিক জুসের ক্ষরণ বেড়ে যায় যার ফলে একাধিক পেটের রোগের লক্ষণ কমতে শুরু করে। 

দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে

করলার রস নিয়মিত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এছাড়া এই পানীয়টি লিভার ফাংশন বাড়ানোর পাশাপাশি হজম ক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। 

পাইলসের কষ্ট দূর করতে 

যাদের পাইলসের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়ম করে প্রতিদিন সকাল করলার রস খেতে পারেন যা আপনাকে খুব অল্পদিনের মধ্যেই পাইলসের যন্ত্র্না থেকে রেহাই দিবে। এছাড়া করলা গাছের মূল বেটে নিয়ে সেই পেস্ট পাইলসের উপর লাগালেও অনেক উপকার পাওয়া যায়। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে

যারা প্রতিদিন সকাল বেলায় করলার রস খান তাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তার বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ বা ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। 

দৃষ্টিশক্তি উন্নতিতে

করলার রসে থাকে প্রচুর পরিমানে বিটা-ক্যারোটিন। চোখ ভালো রাখতে চাইলে নিয়মিত করলা খাওয়ার পাশাপাশি করলার রস খান।

পিত্ত শ্লেষ্মাজনিত রোগে

অনেক সময় ম্যালেরিয়া জ্বর হলে পিত্ত ঠিকমতো কাজ করতে পারেনা এবং  শরীরে বিভিন্ন  উপসর্গ যেমন শরীর কামড়ানি, পিপাসা ও বমি দেখা দেয়। এক্ষেত্রে করলা পাতার রস এক চা চামচ একটু গরম করে অথবা গরম পানির সাথে মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার করে রোগীকে খাওয়ালে তার জ্বরের উপসর্গগুলো চলে যাবে ও জ্বরের প্রকোপও কমে যাবে।

কৃমি দূর করতে

যেসব বাচ্চাদের পেটে গুঁড়ো কৃমির সমস্যা রয়েছে তাদের সকালে ও বিকেলে আধা চা চামচ করে  করলার পাতার রস অল্প পানি মিশিয়ে খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়। আর রোগী বয়স্ক হলে ১-২ চা চামচ পরিমাণ দিতে হবে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে

করলায় রয়েছে শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধী কিছু উপাদান যা দেহে সেলের বৃদ্ধি আটকিয়ে দেয়। এর ফলে এই মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। এছাড়া অ্যানিমিয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের চিকিৎসাতেও এই সবজিটি দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে।  

স্বাদের চেয়ে ওষুধের গুণই করলাকে সবার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। নানা প্রকার অসুখ বিসুখ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে করলা নিয়মিত খাওয়া জরুরি।