ঈদে ভারি খাবার খেয়ে সুস্থ থাকবেন যেভাবে

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ন, ১৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৬ অপরাহ্ন, ১৮ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রমজানের দীর্ঘ এক মাস রোজার পর ঈদ আসে আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে। তবে এই আনন্দ অনেকের জন্য কিছুটা অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যদি খাবারের ব্যাপারে সতর্কতা না নেওয়া হয়।

ঈদে ও পরের কয়েক দিন অতিরিক্ত খাওয়া, তৈলাক্ত ও ভারী খাবারের আধিক্য এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই পেটের সমস্যায় ভোগেন। 

আরও পড়ুন: সমস্যা আপনার জীবন না, সমস্যা আপনার স্ক্রিন

বদহজম, গ্যাস, বমি, ডায়রিয়া, অ্যাসিডিটি ইত্যাদি সমস্যা এড়াতে খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘ দিনের সংযমের পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

হেল্থ এইড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আফিফ বাসার এই বিষয়ে বলেন, “রোজার এক মাস শরীর একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। হঠাৎ করে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই ঈদের দিন ও পরের কিছুদিন খাদ্য তালিকা ভারসাম্যপূর্ণ রাখা খুবই জরুরি।”

আরও পড়ুন: ডিজিটাল ডিটক্স কী, কখনও ডিজিটাল ডিটক্স চেষ্টা করেছেন?

ঈদের দিনে খাবারের পরিকল্পনা

ঈদের দিনে অনেকেই প্রচুর পরিমাণে সেমাই, পায়েস, বিরিয়ানি, কোরমা, রোস্ট, মিষ্টান্ন ইত্যাদি খেয়ে ফেলেন। 

তবে পার্সোনা হেলথের পুষ্টিবিদ শওকত আরা বলছেন, “খাবার অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে এবং দিনের বিভিন্ন সময় ভাগ করে খাওয়া উচিত।”

এবার জেনে নেওয়া যাক, ভারি খাবার খাওয়ার পর কী করবেন—

হালকা গরম পানি পান করুন—

খাওয়ার ৩০–৪০ মিনিট পর হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। এর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খেলে বিপাকক্রিয়া বাড়ে এবং শরীরের টক্সিন বের হতে সাহায্য করে। তবে খাওয়ার সময় পানি পান না করাই ভালো। খাওয়ার পর চা বা কফিও এড়িয়ে চলুন; কারণ এতে থাকা ফেনোলিক যৌগ ও ক্যাফেইন পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়।

টকদই—

ভারি খাবারের ১৫–২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিক খাবার হিসেবে টকদই খেতে পারেন। এটি হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। দইয়ের সঙ্গে ভাজা জিরা মিশিয়ে খেলে উপকার আরও বেশি পাওয়া যায়।

বোরহানি—

খাবারের শেষে বোরহানি, লাচ্ছি বা মাঠা পান করলে হজমে উপকার পাওয়া যায়।

আদা ও জিরা ভেজানো পানি—

আদায় থাকা জিঞ্জেরল দ্রুত খাবার ভাঙতে সাহায্য করে এবং বমি ভাব কমায়। অন্যদিকে জিরা পেটের গ্যাস কমাতে কার্যকর। তবে জিরা পানি তৈরিতে প্যাকেটজাত জিরা ব্যবহার না করাই ভালো।

মৌরি বীজ—

মৌরি হজমতন্ত্রের পেশিকে শিথিল করে, ফলে বদহজম, পেট ফাঁপা ও গ্যাসের অস্বস্তি কমে। ভারি খাবারের পর এক চা চামচ মৌরি চিবিয়ে খেতে পারেন।

আপেল সাইডার ভিনেগার—

এটি হজমে সহায়ক একটি উপাদান। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ে, যা খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। ভারী খাবারের আগে বা পরে এটি পান করা যেতে পারে।

ফল—

হজমশক্তি বাড়াতে এনজাইমসমৃদ্ধ ফল যেমন পেঁপে বা আনারস খেতে পারেন। পেঁপের পাপাইন ও আনারসের ব্রোমেলেন প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে। তবে যাদের আগে থেকেই পেটের সমস্যা (যেমন আইবিএস) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব ফল সবসময় উপযোগী নাও হতে পারে। তারা বিকাল বা সন্ধ্যায় এসব ফল খেতে পারেন।

ডিটক্স পানীয়—

ভারি খাবারের পর পানিতে লেবু, শসা, পুদিনা বা তেঁতুল মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি শরীরকে ডিটক্স করতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।

হাঁটাহাঁটি—

খাবারের পরপরই ভারি শরীরচর্চা না করে হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর ১৫–২০ মিনিট হাঁটলে হজমশক্তি বাড়ে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।