দেশি পশুপালনে জোর দিয়ে আমিষে স্বয়ংসম্পূর্ণতার আহ্বান উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম সাফল্য হলো নতুন চিন্তাধারা ও ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনমানুষের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নীতি প্রণয়ন করা।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ ‘৪-এফ (4F) মডেল’-এর রেপ্লিকা উদ্বোধন ও এক সেমিনারে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য মেলায় কারা প্যাভিলিয়ন প্রথম স্থান অর্জন
উপদেষ্টা বলেন, বিদেশি জাতের পশু আমদানির চেয়ে দেশীয় জাতের পশুপালন বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। সঠিকভাবে দেশি গরু লালন-পালন করা গেলে আমিষে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি জানান, সম্প্রতি পরিবেশবান্ধব ৪-এফ মডেল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যেখানে ঘাস থেকে ফার্টিলাইজার ও বায়োফুয়েল উৎপাদনের একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর প্রক্রিয়া রয়েছে। এই মডেল ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী এবং গবাদিপশুর মিথেন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: ভাষাশহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা: শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি
ফরিদা আখতার বলেন, দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ঘাসের ব্যবহার বাড়ালে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। আমাদের দেশে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও মুরগিসহ আমিষের নানা উৎস রয়েছে। এসব উৎসকে বহুমুখীভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে মাংসের দাম কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা। আধুনিক ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আমিষের দাম রাখা সম্ভব হবে।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ খামারিদের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা পশুপালনের মাধ্যমে পরিবার ও দেশকে সমৃদ্ধ করছেন। তাদের কাজকে সহজ করতে সরকার নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) গাজী ওয়ালি-উল-হক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের খামারিরা।





