জুলাইয়ের ২৫ দিনেই রেমিট্যান্স ২২৯ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ২০.৬ শতাংশ
চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৫ দিনেই দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ২২৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। ধারাবাহিক এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১,৩৮৪ কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছেন ২২৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময় দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা শতাংশের হিসাবে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
আরও পড়ুন: বন্যার ধাক্কায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে মূল্যঝড়, কাঁচামরিচ ২৪০ টাকা
সবশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৫ জুলাই—এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২১৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাসের শেষ ভাগেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ডলারের বাজারে চাপ কমাতে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য উন্নত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মাসের বাকি দিনগুলোতেও রেমিট্যান্সের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে জুলাই শেষে মোট প্রবাসী আয় আরও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাবে।





