নির্বাচনে কোনো দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ন, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৬ পূর্বাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সামান্য পক্ষপাতিত্বও সহ্য করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: বহুমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের সেবক—তারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধির কাছ থেকে অর্থ, সুযোগ-সুবিধা এমনকি খাবার গ্রহণ করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের আচরণ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তদন্তে কমিটি

উপদেষ্টা আরও বলেন, “কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে যুক্ত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’ যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন।

নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন অস্বচ্ছ হলে জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাই এমন একটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসিত হবে।

তিনি জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সভার মাধ্যমে অধীনস্থদের নির্বাচনি আচরণবিধি ও করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন হলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী এবং ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফুদ্দিন আহমেদ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

এ মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) অংশগ্রহণ করেন।