অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: এইচআরএসএস রিপোর্ট

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:০২ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানামুখী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠ পর্যায় পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মব ভায়োলেন্স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিভিন্ন অফিস এবং প্রতিষ্ঠান আক্রমণের শিকার হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “কিছু অদৃশ্য শক্তির সক্রিয়তার কারণে গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ ও চরিত্র ম্লান হয়েছে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট হয়নি। মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নাগরিক নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১,০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

গত ১৭ মাসে দেশে ১,৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯৫ জন নিহত এবং ১১,২১৯ জন আহত হয়েছেন। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধ, সমাবেশ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত, চাঁদাবাজি ও স্থাপনা দখল। বিএনপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ৭০৪টি ঘটনায় ১২১ জন নিহত এবং ৭,১৩১ জন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলার ২৩৬টি ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত এবং ২৪৯ জন আহত হয়েছেন। ৩০০-এর বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়, ১৩০টির বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ১৫৫টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত এবং ১,৪০৩ জন আহত হয়েছেন।

১৭ মাসে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলায় ৬ জন নিহতসহ ৮৩৪ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজতে থাকা অবস্থায় এবং নির্যাতনে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জনের, যার মধ্যে ৪৪ জন কয়েদি এবং ৮৩ জন হাজতি। সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনসহ কয়েকজনের মৃত্যু ঘিরে পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ১ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ১৭টি মন্দির, ৬৩টি প্রতিমা এবং ৬৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অবস্থা যথাযথভাবে সুরক্ষিত না হলে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।