শ্রমবাজারে সুনাম রক্ষা ও সনদ জালিয়াতি প্রতিরোধে নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসডিএর এটি দ্বিতীয় গভর্নিং বডি সভা; এর আগে ২০২২ সালে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ৪৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ১ হাজার ৪৫৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ
সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক, কিন্তু দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বিফল হবে।"
আরও পড়ুন: চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কিনছে বাংলাদেশ
দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ সুরক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, চাকুরিদাতারা নিশ্চয়ই বলবে—‘বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা দক্ষ এবং প্রতিশ্রুতিশীল।’ তিনি উল্লেখ করেন, এনএসডিএ যে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে তা জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, "আমাদের তরুণ প্রজন্ম সৃজনশীল এবং সম্ভাবনাময়। আমাদের কর্তব্য হলো তাদের সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত করা।" এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ব্যবস্থা চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্প খাতে শ্রমিক চাহিদা নিরূপণ ও কেন্দ্রিয়ভাবে শক্তিশালী পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হবে।
সভায় এছাড়াও এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: উদীয়মান সেক্টরগুলিতে স্কিলস গ্যাপ বিশ্লেষণ, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বৃহৎ জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতির’ মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (IMT)-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি (CDC) দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।





