কূটনৈতিক মিশনে বড় রদবদল: যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহার
- চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া চার রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় বদলি
- লন্ডনের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে দ্রুত দেশে ফিরতে নির্দেশ
- কমিউনিটিতে বিভাজন ও ‘দলীয় প্রভাবের’ অভিযোগের ইঙ্গিত
- অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসে নতুন বার্তা
বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া চার রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। একইসঙ্গে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করে দ্রুত দেশে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে এ পদক্ষেপকে অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান প্রশাসনিক ও নীতিগত পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিদেশে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রথম সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন পাস হবে : তথ্য মন্ত্রী
প্রত্যাহার হওয়া রাষ্ট্রদূতরা হলেন—পর্তুগালে নিযুক্ত এম. মাহফুজুল হক, পোল্যান্ডে মো. ময়নুল ইসলাম, মেক্সিকোতে এম. মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মালদ্বীপে মো. নাজমুল ইসলাম। তারা সবাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তাদের দ্রুত ঢাকায় সদর দপ্তরে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামানো হচ্ছে মোবাইল কোর্ট
এদিকে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির স্থানীয় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকমিশনের কর্মকাণ্ডে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার প্রভাবের অভিযোগ ছিল এবং এর ফলে কমিউনিটির মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি এটিকে “একটি সুখবর” বলেও উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশ সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা আপলোড করা হয়নি বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে প্রশাসনিক ও নীতিগত পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এই রদবদল করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি বিদেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বেও বিভিন্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবিদা ইসলামকে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে কমনওয়েলথের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে লন্ডনে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু মিশনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





