লাইসেন্স বাতিলের পর আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়ছেন রোগীরা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে হাসপাতাল ছাড়তে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন রোগীকে, যার মধ্যে শিশু রোগীও রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭৩ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও প্রায় ২৪৩ জন রোগী।

আরও পড়ুন: বহুমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেয়। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রোগীদের নিরাপদে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

লাইসেন্স বাতিলের পর থেকে হাসপাতালে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হতে দেখা যায়নি। তবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ), উচ্চ নির্ভরশীল ইউনিট (এইচডিইউ) এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন গুরুতর রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বজনরা বলছেন, এসব রোগীকে অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তদন্তে কমিটি

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গুরুতর অবহেলার বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ ছিল এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া প্রায় ৯০০ বর্গফুট আয়তনের কক্ষে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও হাসপাতালে কার্যকর জরুরি চিকিৎসা সাড়া ব্যবস্থা ছিল না। ঘটনাস্থলে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবাকর্মীদের অবহেলা ও অসহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।

এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।