১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, সালাম গ্রহণ রাষ্ট্রপতির
দীর্ঘ দেড় যুগ পর মহান স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হলো সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবং অভিবাদন মঞ্চ থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সকাল ১০টার দিকে মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা। এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্যারেড মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন তিনি। প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এসএম আসাদুল হক তার সঙ্গে ছিলেন।
মার্চপাস্টে অংশ নেয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, কারা পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর কন্টিনজেন্ট। সম্মিলিত নারী কন্টিনজেন্ট ও আধুনিক ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটও এতে অংশ নেয়।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ, উপস্থিত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
প্যারেডের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আকাশে ফ্লাইপাস্ট ও প্যারাট্রুপারদের প্রদর্শনী। প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ২৬ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকাসহ অবতরণ করেন। এছাড়া আর্মি অ্যাভিয়েশন, নৌ ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান আকাশে কৌশল প্রদর্শন করে।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিমান বাহিনীর অ্যারোবেটিক শোতে পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান বর্ণিল ধোঁয়া ছড়িয়ে আকাশ রাঙায়। পরে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ‘ফ্লাইং স্যালুট’ ও ‘ভিক্টোরি রোল’ প্রদর্শন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে।
প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিক বহর—ট্যাংক, কামানসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জামও প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বহনকারী কন্টিনজেন্ট এবং ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী ইউনিট দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে প্যারেড গ্রাউন্ড ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো, যা জাতীয় গৌরব ও সামরিক সক্ষমতার এক অনন্য প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





