সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ৮ এপ্রিল, ভোট ১২ মে
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল আগামী ৮ এপ্রিল ঘোষণা এবং ভোটগ্রহণ ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি। নির্বাচনী মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার সময় এক মাস বাড়ানো এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ নীতিমালা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আক্তার আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, কমিশনের ২০২৬ সালের ১১তম বৈঠকে পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ছিল প্রধান।
আরও পড়ুন: ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। তফসিলের বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত আইনে কমপক্ষে এক বছর এসব সামগ্রী সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কোনো আসন সংশ্লিষ্ট মামলা থাকলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করতে হবে। বর্তমানে নির্বাচন-পরবর্তী মামলা রয়েছে ৫০টি।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী
শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই দুই নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিদর্শন করে কমিশন কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি জানিয়ে আক্তার আহমেদ বলেন, এ দুটি আসনের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কমিশন।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে আহত বা নিহতদের ক্ষতিপূরণ নীতিমালা (২০২২) পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে না পারায় কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় ৮০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিবেদনের সুপারিশ নিয়ে পরবর্তীতে সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করা হবে। বাস্তবসম্মত সুপারিশগুলো আইন ও বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ভোটার দিবস আরও অর্থবহভাবে পালনের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।
ইভিএম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়নি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইভিএম সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন, অডিট বিভাগ এবং বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের আওতায় রয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





