নরসিংদীতে বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব, জনমনে আতঙ্ক

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪২ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সারাদেশের নেয় নরসিংদীতেও বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত কয়েকদিনে সিভিল সার্জনের তথ্য মতে ৮৪ জন শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অধিকাংশ শিশু। এতে দুশ্চিন্তায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে জেলাবাসী। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতা ও সময়মতো টিকা দিতে জেলা সিভিল সার্জনের প্রতি আহ্বান জানান সচেতন মহল। 

জেলা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনই বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শিশু ওয়ার্ডে ১৫ বেড়ের শয্যা থাকলেও সেখানে প্রতি বেডে ২ থেকে ৩ জন করে শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সাথে হাম আক্রান্ত রোগী একই বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে কর্তব্যরত সেবিকারা সেবা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। পাশাপাশি শিশুর অভিভাবক ও স্বজনরা রয়েছেন আতঙ্কে।

আরও পড়ুন: নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক সজল ভূঁইয়া

নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান মতে চলতি মাসের ২ তারিখ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হলে গত ৩ দিনে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ জনে। এসব রোগী নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাম আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা জানান, নরসিংদীতে হাম ছড়াচ্ছে। দ্রুত, নীরবে ছড়াচ্ছে। আর আমরা কি করছি? শুধু দেখছি। অপেক্ষা করছি, যেন এটা আমাদের ঘরে না আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই রোগ কাউকে ছাড়ে না। সবচেয়ে দুঃখজনক আমাদের হাসপাতালগুলোতে। আমি নিজের সন্তান  যেখানে একজন হাম রোগী আর একজন সাধারণ রোগী একই জায়গায়, একই পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছে। অর্থাৎ, চিকিৎসা নিতে গিয়েই মানুষ নতুন রোগ নিয়ে বাড়ি ফিরছে। এটা কি স্বাস্থ্যসেবা, নাকি সংক্রমণ ছড়ানোর কেন্দ্র?

আরও পড়ুন: বরগুনা সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা, তিন শিশুর মৃত্যু

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম নরসিংদীতে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবীর বলেন, নরসিংদীতে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এটা সত্য হোম রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য আলাদ কোনো বেডের ব্যবস্হা বা আইসোলেশন নাই। আমি সদ্য যোগদান করেই জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে দেখেছি এক বেডে দুই শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জায়গা বা বেড না থাকায় এই অবস্থা। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হাম রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ডের দ্রুত  ব্যবস্হা করেছি। সেখান প্রায় ৪০টি বেড ও পর্যাপ্ত অক্সিজেনর ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয়েছে। আশাকরি দুই-তিনদিনের মধ্যে চালু করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, সিভিল সার্জন  হাম প্রতিরোধে শিশুদের দ্রুত টিকা দানের ব্যবস্হা গ্রহণ করেছে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে বলেও তিনি জানান।